মানসুখ সহিহ হাদিস

হাদিস সহিহ কিন্তু মানসুখ। এমন সহিহ হাদিসের আমল নামাজে বাড়তি কাজ।আর নামাজে বাড়তি কাজ করলে নামাজ ভঙ্গ হয়। আহলে হাদিস যে হাদিসের আমল করছে ছুন্নাত মনে করে, উল্টা সে হাদিসের আমলে তাদের নামাজ বরবাদ হচ্ছে। নামাজে জোরে আমিন বলা, বুকে হাত বাঁধা ও রফে ইয়াদাইন করা সংক্রান্ত হাদিস মানসুখ। কাজেই সহিহ হলেও নামাজে এসব কাজ করা হলে বিধিমত নামাজ ভঙ্গ হবে। ইমাম আবু হানিফা (র.) এসব হাদিসের আমল বাদ দিয়েছেন। আহলে হাদিস বলছে ইমাম আবু হানিফা (র.) এসব হাদিস পাননি। যদিও তাদের দাবীর কোন সত্যতা নেই। বরং তিনি এসব হাদিস পেয়েও এসব হাদিসের আমল করেননি এ কথার সত্যতার প্রমাণ বিদ্যমান। কারণ ইমাম আবু হানিফা (র.) হজরত আলীর (রা.) রাজধানী কুফার বাসিন্দা। হজরত আলীর ইমামতিতে নামাজ আদায়কারীলোকদের ইমাম আবু হানিফা (র.) পেয়েছেন, কারণ তিনি তাবেঈ।হজরত আলীর (রা.) পিছনে নামাজ আদায়কারীরা একযোগে এসবকাজ ছেড়ে দেবেন তা হতে পারেনা। আর হজরত আলী (রা.) মহানবির (সা.) মত নামাজ পড়েননি এমন কথাও সংগত নয়। সুতরাং সাব্যস্ত হলো যে মহানবি (সা.) এসব কাজ আগে করলেও পরে তা’ছেড়ে দিয়েছেন।যার কারনে হজরত আলী (রা.) ও তাঁর পিছনে নামাজ আদায়কারী মুছল্লিরা এসব কাজ করেননি। কাজেই প্রমাণীত হলো যে এসব কাজ মানসুখ। কাজেই সহিহ হাদিসে এসব কাজের কথা বলা থাকলেও নামাজে এসব কাজ করলে ছুন্নাত আদায়ের বদলে নামাজ ভঙ্গ হবে। শয়তান মানুষের নামাজ বরবাদ করতে সহিহ হাদিসের দোহাই দিয়ে মানুষকে এসব কাজ করতে প্ররোচিত করছে যেন মানুষের কষ্ট করে আদায় করা নামাজ বরবাদ হয়। হাদিস যারা লিখেছেন তারা সহিহ হাদিস লিখলেও তাতে কোনটা চলমান আর কোনটা মানসুখ বা রহিত সেটা আলাদা করেননি। তবে মানুষ জানে এসব হাদিসের আমল করা যাবে না। সেজন্য এসব সহিহ হাদিসের বয়স হাজার বছর ছাড়িয়ে গেলেও সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমান এসব সহিহ হাদিসের আমল করে না।জানার বিষয় হলো হাদিস সহিহ হলেও যদি তা’ মানসুখ হয় তবে তার আমল করা সংগত নয়। এটা মহানবিকে (সা.) এটা বলা যে আপনি এ কাজ ছেড়ে দিলে কি হবে, আমরা কিন্তু ছাড়িনি।এভাবে এসব হাদিসের আমলের দ্বারা মহানবির (সা.) সাথে মশকরা হয়।

Post a Comment

0 Comments